বিশ্ব ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 10 বার পঠিত

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এর প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। জেলাগুলো হলো- দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম বর্ধমান।
ভোর সাড়ে ৫টা থেকে মকপোল শুরু হয়। সকাল ৭টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রথম দফায় মোট ৪৪ হাজার ৩৬৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রধান বুথ রয়েছে ৪১ হাজার ৪১৮টি এবং সহকারী বুথ ২ হাজার ৯৫৮টি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি বুথে ভোটগ্রহণ চলাকালে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতি বুথে গড়ে ভোটার সংখ্যা ৮১৩ জন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ কর্মী এই দফার ভোট পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন।
ভোটার তালিকার সর্বশেষ সংশোধনের পর এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৭৭ হাজার ১৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৮৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯৬ জন, নারী ভোটার ১ কোটি ৭৫ লাখ ৭৭ হাজার ২১০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪৬৫ জন।
প্রথম দফায় ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক মন্ত্রী ও বর্তমান বিধায়ক।
২০২১ সালের নির্বাচনে এই ১৫২টি আসনের মধ্যে ৯২টিতে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি পেয়েছিল ৫৯টি আসন এবং একটি আসন জিতেছিল নির্দল প্রার্থী। সে সময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) কোনো আসন পায়নি।
এবার মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর—এই তিন মুসলিম অধ্যুষিত জেলায় মোট ৪৩টি আসনে সংখ্যালঘু ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটের বিভাজন নিয়ে নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেন হুমায়ুন কবীর। শুরুতে সক্রিয়তা থাকলেও ভোট ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বিজেপির সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসাজশের একটি স্টিং অপারেশনের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর দলটি চাপে পড়ে। এর পর থেকেই একাধিক প্রার্থী দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে, যা রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলের জন্য কিছুটা সুবিধা তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে এই তিন জেলায় বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও আইএসএফ প্রার্থী দিলেও ভোটের ফলাফলে তাদের প্রভাব কতটা পড়বে, তা জানা যাবে গণনার পর।
পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। সব দফার ভোট গণনা হবে ৪ মে।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনেও আজ ভোটগ্রহণ চলছে। রাজ্যটির ২৩৪টি আসনে এক দফায় ভোট নেওয়া হচ্ছে। এর আগে কেরালা বিধানসভা নির্বাচন, আসাম বিধানসভা নির্বাচন এবং পুদুচেরি বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া এলাকার ৮৮ নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ শুরু করা যায়নি। সকাল থেকেই সেখানে ভোটাররা লাইনে অপেক্ষা করছেন।
Posted ৩:০৪ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।